May 23, 2024

Bharat News Bazar

Indian news in multiple language

How world’s largest war industry works

1 min read

আজ থেকে ঠিক 20 বছর আগে মার্চ মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে আক্রমণ করে।টানা 8 বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই যুদ্ধ চলতে থাকে।এই যুদ্ধে প্রায় 85000 এরও বেশি লোক মারা যায়।11 সেপ্টেম্বর 2001 সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব বাণিজ্য সেন্টারে জঙ্গি হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে বিমান হামলা শুরু করে।আর এই যুদ্ধ টানা 20 বছর অবধি চলতে থাকে।

বর্তমানে রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের যুদ্ধ আমরা দেখতে পাচ্ছি।যা 1 বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে।কিন্তু সারা পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন স্থানে যে যুদ্ধ চলছে তার থেকে সরাসরি প্রত্যক্ষ ভাবে বা পরোক্ষ ভাবে বিলিয়ন ডলার আয় করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।জর্জ বুশ এর ঘোষণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আল কায়দা জঙ্গিদের আক্রমণ করে।

এবার যদি আমরা একটু গভীরে যাই যে যুদ্ধ সাধারণত কেন হয়?তো এর পিছনে অনেক ধরণের কারণ থাকে।যেমন-সম্পদ।1931 সালে জাপান মাঞ্চুরিয়াকে আক্রমণ করে এবং তাদের এলাকা দখল করে নেয়।কারণ তারা চেয়েছিল সেখানকার সম্পদ নিতে।যেমন-অপরিশোধিত তেল,তামা,লোহা,স্টিল।তাছাড়া ভূরাজনৈতিক আধিপত্য যুদ্ধের কারণ।

হিটলার জার্মানদের নিয়ে নাৎসি সেনাবাহিনী তৈরি করেছিল।আর এই সেনাবাহিনী দিয়ে সে অনেক এলাকা নিজের কুক্ষিগত করেছিল।যেমন-অস্ট্রিয়া,চেক প্রজাতন্ত্র, ফ্রান্সের কিছু এলাকা,বেলজিয়াম, পোল্যান্ড এবং ইতালি।যুদ্ধের আরও একটা কারণ হল কোনও একটি রাষ্ট্রের উপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা।পূর্ব আফ্রিকার নেতা মুসোলিনি যুদ্ধ শুরু করেন নিজের দেশের মানুষের কাছে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য।

বিশেষভাবে যদি একটু লক্ষ্য করা যায় তাহলে আমরা দেখতে পাবো যে,

 

যুদ্ধ হল আসলে বিশাল বড় একটা ব্যবসা।আর যে কোনও ব্যবসার মূল কাজ হল তার অংশীকারী দের  লাভ বুঝিয়ে দেওয়া।এখানে যুদ্ধের ক্ষেত্রেও ঠিক একই মডেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।সাধারণত আমরা দেখতে পারি প্রতিটি ব্যবসাতে কর্মচারী, ক্রেতা,অংশীদাররা,বেসরকারী বিনিয়োগকারী থাকে।ঠিক তেমন যুদ্ধের মধ্যেও আলাদা আলাদা অংশীদার থাকে।

1)যে একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে

2)যুদ্ধে একে অন্য দলকে সাহায্য করে।যুদ্ধে সরাসরি যুক্ত না হয়েও অর্থনৈতিক,পরিকাঠামো দিক থেকে,ভৌগোলিক অবস্থানের ফায়দা,লজিস্টিক অবকাঠামো,চিকিৎসাগত সুযোগ সুবিধা বা সামরিক বাহিনী দিয়ে সাহায্য করে।

3)পুশার।এরা এমন ধরনের জিনিস সরবরাহ করে থাকে যাতে এক দেশ অন্য দেশের সাথে টানা যুদ্ধে লিপ্ত থাকবে।

1980 সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে 1988 সালের আগস্ট মাস অবধি ইরাক এবং ইরানের যুদ্ধ হয়।এই যুদ্ধে ইরাককে সৌদি আরব,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কুয়েত সমর্থন করে।অন্যদিকে ইরানকে যুদ্ধের সকল ধরনের সমরাস্ত্র দিয়ে সমর্থন করে ইজরাইল।এই যুদ্ধে পুশার ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।এই যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরাইল এর মধ্যে এই চুক্তি ছিল যে,ইজরাইল কখনোই ইরানকে কোনও সমরাস্ত্র বিক্রি করতে পারবে না।

কারণ এই সময় সেই সবই সমরাস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে যা তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহ করছে।এই চুক্তি অনুযায়ী ইজরাইল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি কোম্পানি খোলে।যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সমরাস্ত্র কিনবে।এবং এটা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে এই কোম্পানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের কোম্পানি গুটিয়ে লন্ডনে 1983 সালে নতুন অফিস খোলে।

সারা পৃথিবীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেখাচ্ছে যে সে ইরাককে সমর্থন করছে অর্থ এবং সমরাস্ত্র দিয়ে।কিন্তু অন্যদিকে এর সাথে সাথেও সে ইরানকেও সরাসরি সাহায্য করছিল ইজরাইল এর মাধ্যমে সমরাস্ত্র বিক্রি করে।এই অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরাইল উভয়ই পুশার হয়।

এই যুদ্ধের মাধ্যমে রেথিয়ন টেকনোলজি এবং লকহেড মার্টিন এই দুই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ইরাক এবং ইরানকে যুদ্ধের উড়োজাহাজ এবং ট্যাংক,সমরাস্ত্র সরবরাহ করতে থাকে।এছাড়া শেভরন এবং এক্সেল মবিল কোম্পানি এই দুই দেশকে অপরিশোধিত তেল এবং গ্যাস সরবরাহ করতে থাকে।ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইরান এবং ইরাক এই দুই দেশকেই জল,খাবার,সব ধরনের চিকিৎসা দ্রব্য সরবরাহ করে।

পুরো যুদ্ধের সময় ধরে এই সকল কোম্পানি বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে।যুদ্ধের ফলে যে ধ্বংসলীলা চলেছে তা নতুন করে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকাঠামো তৈরির সবচেয়ে বড় কোম্পানি হ্যালিবার্তন ইরাক এবং ইরান দুই দেশেই কাজ শুরু করে।দুই দেশের চিকিৎসা অবস্থা পুনরুদ্ধার এর কাজ দেওয়া হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ইউনাইটেড হেলথ গ্রুপকে।যুদ্ধের জন্য দুই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব খারাপ।এর জন্য দুই দেশেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গুলো যায় এবং সেখানে নিজেদের কোম্পানির শাখা খোলে খুব কম মূল্যে।

তারপর খুব দ্রুত দুই দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ গুলো ধ্বংস করা শুরু করে নিজেদের পুঁজিগত লাভের জন্য।যার ফলে এই দুই দেশ সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গুলোর উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হয়ে যায়।তার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

সাধারণত সরকারের যে আয়ের মডেল থাকে সেখানে দুই ধরনের কর থাকে।1)কর্পোরেট কর 2)আয় কর।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে,এখানকার কোম্পানি গুলো যত বড় হচ্ছে সরকারের ও আয় বেড়েছে।বিজনেস ইনসাইডার এর মতে,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস এই যুদ্ধগুলো থেকে প্রচুর পরিমানে আয় করেছে।

মাত্র 20 জন কংগ্রেস সদস্য এবং তাদের সহধর্মিনীরা সবচেয়ে বড় সামরিক অস্ত্র তৈরি কোম্পানির উপর (রেথিয়ন টেকনোলজি এবং লকহীদ মার্টিন) বিনিয়োগ করেছে।আর এই দুটি কোম্পানি সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক অস্ত্র তৈরির কোম্পানি।(ভারত,দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, অস্ট্রেলিয়া, চীন)এরা সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সামরিক অস্ত্র আমদানি করে।যা পৃথিবীর মোট অস্ত্র আমদানির 36%.অন্যদিকে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স,রাশিয়া,জার্মানি এবং চীন)এই দেশগুলো সারা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় 5টি সামরিক অস্ত্র রপ্তানি কারক দেশ।যা পৃথিবীর মোট সামরিক অস্ত্র রপ্তানির 76%.

তো যে সকল রাষ্ট্রের কাছে সূচতুর গুপ্তচর সংস্থা, সেনাবাহিনী পরিকাঠামো তৈরির ক্ষমতা, বিশাল পরিমাণ ক্যাপিটাল বা অর্থ রয়েছে তারাই যুদ্ধ থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে।

তার জন্যই বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় মিম অনুযায়ী

Why dad why.

This is bussiness.

More Stories

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.