May 17, 2024

Bharat News Bazar

Indian news in multiple language

Why George Soros is more dangerous than a nuclear bomb against India

1 min read

এই বিষয় নিয়ে আমরা আমাদের আগের ওয়েবসাইটে লেখাটা বের করার আগেই ওয়েবসাইটে সমস্যা হয়।তো এখন আবার আমরা ফিরে এসেছে পুরো দমে।শুরু করা যাক তাহলে।

জর্জ সরস হল (ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন)এর প্রতিষ্ঠাতা।কয়েক মাস আগে এ বলছে যে,(ভারত একটি আকর্ষণীয় তদন্তের বিষয়,এটা একটি গণতন্ত্র।কিন্তু এর নেতা,নরেন্দ্র মোদি,গণতান্ত্রিক নয়।আমি চাই ভারতে একটা গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণ ঘটুক।)এই হচ্ছে এই সরস এর বক্তব্য।

তো কে এই জর্জ সরস।

জর্জ সরস হল একজন হেজ পুঁজি বিনিয়োগকারী।এই ব্যবসাতে সত্যিই সে সফল।সাধারণত আমরা যদি একটু খুঁটিয়ে দেখি জর্জ তার মক্কেলদের তাদের বিনিয়োগের 30% বা তারও বেশি প্রত্যাবর্তন করে থাকে।যখন আমরা এই প্রবন্ধটি লিখছি তখন সরস এর নিজের মোট সম্পত্তির পরিমাণ $8 বিলিয়ন।1980 সাল থেকে আজ অবধি সরস $32 বিলিয়ন দান করেছে তাও আবার নিজের সংস্থায় যার নাম ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন।

জর্জ সরস এর জন্ম হয়েছিল হাঙ্গেরির এক ইহুদী পরিবারে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানিরা ইহুদীদের খুঁজে খুঁজে মারছিল তখন সরস এর বাবা তার চেনাজানা লোকদের সহযোগিতা নিয়ে তার জন্মপত্রে ইহুদি থেকে ক্যাথলিক খ্রিস্টান করে দেন।আর এই পদ্ধতির মাধ্যমেই তারা বেঁচে যায়।আবার সরস এর উপর এই অভিযোগ ও রয়েছে যে সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি দের অন্যান্য ইহুদীদের খুঁজে দিতে সহায়তা করেছিল।(যা সরস নিজে মুখে স্বীকার ও করেছে এবং এই কাজে সে এতটুকুও অনুতপ্ত না।কারণ তার মতে এই কাজ করতে তার ভবিষ্যতে ‘চারিত্রিক উন্নয়নে’ সহযোগিতা করেছে।কারণ তার মতে সে এটা না করলে অন্য কেউ করে দিত।

কিছু বছর পর সরস একজন খুবই ধনী হেজ পুঁজি বিনিয়োগকারী হয় একটি বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে।এই পদ্ধতি হল যে কোনও দেশের মুদ্রার উপর খুবই ধূর্ত এবং সুনিপুন ভাবে আক্রমণ করে মুদ্রাস্থলন করে সেই দেশের অর্থনীতি একদম তছনছ করে দেওয়া।আর তারপর মুদ্রার উপর যে অনুমানমূলক আক্রমণ করে প্রচুর পরিমানে অর্থ উপার্জন করে।এতে শুধুমাত্র সেই দেশের অর্থনীতিই না,সেখানকার লোকেদের চাকরি এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন হয়।আর সরস এই সকল দেশের মুদ্রার বিপরীতে দ্রুত পদক্ষেপ নিত একসাথে খুব কম সময়ে প্রচুর উপার্জনের জন্য।এই রকম ঠিক একটি আক্রমণ সরস করেছিল 1997 সালে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এর বিরুদ্ধে।যার ফলে তার খুব প্রচার হয় পৃথিবী জুড়ে এবং এই সময়ে সরস এক দিনে $1 বিলিয়ন আয় করেছিল।যদিও ইংল্যান্ডের উপর এই অর্থনৈতিক আক্রমণ এর জন্য 10% মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছিল।বেকারত্ব বেড়েছিল এবং অনেক লোক সর্বস্বান্ত ও হয়েছিল।এই সময়ে ইংল্যান্ডের ক্ষমতায় ছিল কনজারভেটিভ দল।এই ঘটনার পর তারা 13 বছর পর্যন্ত ক্ষমতায় আসতে পারেনি। এছাড়া 90 দশকের শেষের দিকে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া,জাপান,রাশিয়া,ইন্দোনেশিয়াতেও সরস একই ধরনের অর্থনৈতিক আক্রমণ করেছিল।এশিয়ার কিছু দেশে অবস্থা এতটাই আশংকাজনক হয়েছিল যে এর জন্য বহু লোক আত্মহত্যা অবধি করেছিল।(হংকং, জাপান,দক্ষিণ কোরিয়া মিলে 10400 জন)(সূত্র-দ্য ইকোনমিস্ট)।এর ফলে ইংল্যান্ডের মতো এই সকল দেশগুলোর ও সরকার পরিবর্তন হয়।সরস কে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে খুব সুন্দর ঠান্ডা পেশাদার খুনির মত তার বক্তব্য, দেখুন কোন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কি হল, কয়জন বাঁচলো বা মরলো তাতে আমার কিছুই যায় আসে না।আমি এখানে এসেছি অর্থ উপার্জন করতে।এর ফলে কি সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে তাতে আমার কিছু করার নেই।

তো এই সমস্ত সুস্থিত সুনিপুন বিধ্বংসী পদক্ষেপ এর পিছনে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণই না তার নিজস্ব “আদর্শগত প্রেরণাও”রয়েছে।তার মতে তার নিজস্ব যে”উদারনৈতিক মতবাদ”তা সারা পৃথিবীতে চালু হওয়া উচিৎ।আর তার জন্যই সে ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন তৈরি করেছে।

কার্ল প্রপার প্রথম ওপেন সোসাইটি এর “মতবাদ” প্রচার করেন এবং তার দ্বারা সরস খুবই প্রভাবিত হয়।সরস এর মতে এই সোসাইটির মিশন হল-বন্ধ সমাজকে মেলে ধরা।সেই সমাজে যা যা সমস্যা আছে তা ঠিক করা।

ঠান্ডা লড়াইয়ের পর পুঁজিবাদ এবং খোলা বাজার ব্যবস্থা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে।রাজনৈতিক নেতারা বড় বড় সংস্থার সাথে একযোগে কাজ করে পুঁজিবাদ কে অনৈতিক ভাবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রেখেছে।কথা গুলো শুনতে ভালো লাগলেও সমস্যা হয় তখন যখন এ নিজে তার সমাধান দেয়।তো সেটা কি?

সরস চায় এক নতুন ধরনের বিশ্বব্যাপী ব্যবস্থা যেখানে কোনও রাষ্ট্র থাকবে না,জাতীয়তাবাদ থাকবে না।ঠিক যেভাবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কাজ করে।অর্থাৎ সব কথার এক কথা পৃথিবীর সব দেশ ওপেন সোসাইটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবে।

অর্থাৎ এ চায় সমাজতান্ত্রিক চীন বা রাশিয়ার এক উদারবাদী সংস্করণ।এর দান সংস্থার মধ্যে আবার অনেক আলাদা আলাদা অংশ রয়েছে।সরস বিংশ শতকের প্রথমে জর্জ বুশকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য $15 মিলিয়ন খরচ করে।সরস এর মতে পুঁজিবাদ সমাজের জন্য খারাপ এর জন্য সে বিভিন্ন পুঁজিবাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করেছে।যেমন-2011 সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল।তার আশা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রতেও আরব বসন্তের মতো বিপ্লব আসবে যা পুঁজিবাদ এবং বাজার অর্থনীতি কে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেবে।এছাড়া সরস নিজে ইহুদি হলেও বিভিন্ন ইজরায়েল বিরোধী সংস্থাকে $10 মিলিয়ন দিয়েছে এবং উগ্র ইসলামিক মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার হয়েছে তাদের নিগৃহীত করেছে।2020 সালে সারা আমেরিকা জুড়ে যে বড় বড় আন্দোলন আর দাঙ্গা হয়েছিল সেখানে সরস এর সোশ্যাল জাস্টিস এর অংশগ্রহণ করেছিল।নিউ ইয়র্ক টাইমস এর মতে এই সকল অনেক গোষ্ঠীকে সরস $220 মিলিয়ন তহবিল প্রদান করেছে।যার মধ্যে 250 টিরও বেশি বামপন্থী মিডিয়া সংস্থা রয়েছে।নিউ ইয়র্ক পোস্টের মতে সরস বিভিন্ন বামপন্থী ফ্যাক্ট চেকিং পোর্টালে বিনিয়োগ করেছে।কেন্দ্রীয় এবং পূর্ব ইউরোপের 10 টি ফ্যাক্ট চেকিং পোর্টালের 8 টি তেই সরস এর বিনিয়োগ রয়েছে।তার নিজের দেশ হাঙ্গেরিতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে ব্যবহার করে বেআইনি অনুপ্রবেশকে সমর্থন করে আসছে।ঠিক এই কারণেই হাঙ্গেরিকে একটি বেআইনি অনুপ্রবেশ বিরোধী আইন পাশ করতে হয়েছে।যার নাম স্টপ সরস ল।সরস এতদিন ধরে যে সকল পদ্ধতি আমেরিকা এবং ইউরোপে চালিয়েছে এখন ঠিক সেই পদ্ধতি আমাদের ভারতে চালানো হচ্ছে।

সম্প্রতি অপপ্রচার ল্যাব থেকে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী জর্জ সরস এবং তার ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন সাথে সারা পৃথিবী জুড়ে যত ভারত বিরোধী সংগঠন রয়েছে তাদের সাথে এদের পুরো সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।

ভারত বিরোধী হিন্দু বিরোধী ল্যাব থেকে শুরু করে ভারতীয় আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল,স্টুডেন্ট এগাইনস্ট হিন্দুত্ব,স্ট্যান্ড উইথ কাশ্মীর সংস্থা যারা আমাদের ভারতের গণতন্ত্রের উপর সরাসরি প্রশ্ন তুলতে থাকে সব সময়।ভারতে যত গুলো না জেলা আছে তার থেকে বেশি সংস্থাকে সরস ভারত বিরোধী জোট বা সংস্থাকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা করে।এই হল প্রায় অবস্থা।কিছু উদাহরণ দেখবো এবার আমরা।

1.হার্শ মান্দার-সিএএ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিসমানটলিং গ্লোবাল হিন্দুত্ববাদ কনফারেন্স এর সাথে যুক্ত।

2.সলিল শেঠি-ভাইস প্রেসিডেন্ট ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন।সিঙ্গু সীমান্তে কৃষকের আন্দোলনে এ অংশগ্রহণ করেছে এবং আন্টি সিএ এ আন্দোলনে শাহীনবাগে ও।

3.ইউনাইটেড স্টেট কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রেলিজিওয়াস ফ্রীডম ইডেক্স ,যারা ভারতকে ধর্মীয় স্বাধীনতা এর হনন এর আরোপ করতে থাকে এবং ভারতকে ব্ল্যাক লিস্ট করেছে সব সময়, এর প্রধান একজন ভারতীয়,অরুনিমা ভারগাভা।আর এ ওপেন সোসাইটির একজন সহকর্মী।

4.ডক সোসাইটি যারা রাবিশ কুমার এর উপর ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে, যেখানে সরাসরি প্রচার করা হয়েছে যে ভারতে গণতন্ত্র একদমই শেষ।এই ডক সোসাইটি কে সরাসরি অর্থায়ন করে ওপেন সোসাইটি।

5.খালিদ বেদউন-ওপেন সোসাইটির সহকর্মী।সরাসরি অর্থায়ন পায় ওপেন সোসাইটি থেকে।

6.একোয়ালিটি ল্যাব-এই সংস্থা বর্তমানে কাস্ট বা জাতিকে একটি সংরক্ষিত ক্যাটাগরি তৈরি করতে চায় আমেরিকাতে।যাদের বক্তব্য সকল হিন্দু এবং সনাতন ধর্ম জাতিভেদ মূলক কাজকর্ম সকলসময় করতে থাকে।যাদের মতে শাকাহারি হওয়া খুবই খারাপ জিনিস এবং যারা হোলি ও দীপাবলি পালন করে তারা জাতিভেদ প্রথা মেনে চলে।এদেরকেও সরাসরি ওপেন সোসাইটি অর্থায়ন করে।

7.রাফায়েল এর কলঙ্ক যারা প্রথম মিডিয়ার সামনে এনেছিল যার নাম শেরপা.ওআরজি।একে সরাসরি অর্থায়ন করে ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন।

8.মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপার বল এর বিজ্ঞাপনে যে কৃষক বিদ্রোহ দেখানো হয় যার ফলে সেখানে খুব বাজে ভাবে ভারতকে পেশ করা হয়।এটি র্সেন্ট্রাল ভ্যালি শিখ কম্যুনিটি এর অন্তর্ভুক্ত।যাকে সরাসরি অর্থায়ন করে ওপেন সোসাইটি।

9.রিপোর্টার উইথ আউট বর্ডার যারা প্রেস ফ্রীডম ইনডেক্স প্রকাশ করে,এরা ভারতকে খুবই নীচে রাঙ্ক প্রদান করে (180 দেশের মধ্যে 150)একে ও অর্থায়ন করে ওপেন সোসাইটি।

10.জেনোসাইড ওয়াচ নামের একটি সংস্থা যারা ভারতের মুসলিমদের উপরে অত্যাচার এর কথা বলে থাকে সর্বদা,একে অর্থায়ন করে ওপেন সোসাইটি।

তো এদের মাত্র একটি জিনিসই মেনে চলে যেটা ওপেন সোসাইটির নীতি সেটাই ভারতের সর্বদা মেনে চলতে হবেই।

এরা ভারতে বিভিন্ন মিশনারি সংস্থা কে সমর্থন করে।যেমন লাওয়ার্স কলেক্টিভস নামে এনজিও সংস্থা।যার প্রধান হল ইন্দিরা জাইসিং এবং আনন্দ গ্রভার।আর দ্য ওয়ার নাম তো আমরা সবাই জানি চরম বামপন্থী সংস্থা,যাকে ফ্রী মিডিয়া পাইনিয়র এয়ার্ড দিয়েছে জর্জ সরস এর সংস্থা।(দা ডেইলি সুইচ টিম)।আমাদের ভূতপূর্ব প্রধানমন্ত্রী এর তনয়া অমৃত সিং ও ওপেন সোসাইটি জাস্টিস ইনিশিয়েটিভ এর সদস্যা।

গণতন্ত্রে গঠনমূলক সমালোচনা খুবই প্রয়োজন এবং গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু আমাদের সবার এটা বুঝতে হবে যে এই অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদী সরস আমাদের রাষ্ট্র এর বিরুদ্ধে কি করছে।এ কোনও গণতন্ত্রকেই পছন্দ করে না।আচার্য চাণক্য এর সাম,দাম,দণ্ড,ভেদ যে কোনও নীতি প্রয়োগ করে আমাদের দ্বারা নির্বাচিত সরকার ভেঙ্গে নিজের নীতির সাথে খাপ খাওয়া সরকার চায় যাতে তার চরম স্বার্থসিদ্ধি হয়।যা আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র এর উপর প্রশ্ন তুলছে।তাই সাধারণ জনগণ হিসাবে সবার চোখ কান খোলা রাখা দরকার।ভবিষ্যৎ এর শুধুমাত্র জনসংখ্যা এর দিক থেকে সর্বোচ্চ না,অর্থনৈতিক দিক থেকেও আরো ভালো অবস্থানে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে আমাদের খুবই সহায়তা করবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.